জানা-অজানা টিপস্

শীতে ত্বকে যেসব সমস্যা হয়

0Shares

শীতকালে সাধারণত ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তার কারণ বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং শরীরে ঘাম কম হওয়া। সে জন্য সবারই ত্বক অল্পবিস্তর ফাটতে পারে।

যাদের ত্বক জন্মগত কোনো ত্রুটির জন্য শুষ্ক কিংবা কোনো ডিফিসিয়েন্সি ডিজিজজনিত কারণে শুষ্ক বা অন্য কোনো অসুখের কারণে শুষ্ক বা বার্ধক্যজনিত কারণে, সিবার নিঃসরণ কমে যাওয়ার কারণে শুষ্ক, তারা শীতকালে আরো বেশি শুষ্কতায় আক্রান্ত হন।

জন্মগত ত্বক রোগ, যেমন ইকথায়োসিস শীতে বাড়ে। জন্মগত ইকথায়োসিসের কারণ জিনগত। এতে চামড়া রুক্ষ্ম হয়ে যায়, মাছের আঁশের মতো ফেটে যায়। জন্মগত কারণ না থাকলেও পরবর্তী জীবনে অন্য কোনো অসুখ (যেমন-লেপ্রসি, হজকিন ডিজিস, তীব্র অপুষ্টি, হাইপোথাইরয়েডিজম) জটিলতা হিসেবে ইকথায়োসিস দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া সঙ্গে শুষ্ক ও খসখসে গুটিযুক্ত ত্বক দেখা দিতে পারে। চুলকানি (স্কেবিস) রোগটি শীতকালে খুব বেশি হয়। শীতের প্রকোপে এবং আর্থসামাজিক কারণে একই লেপের তলায় অনেককে ঠাসাঠাসি করে শুতে হয়। এটি স্কেবিসের সংক্রমণ বাড়ায়।

আবার এই সময়ে ঠান্ডার প্রকোপে বিশেষত শীতকাতুরে লোকেরা নিয়মিত গোসল করা বা গা ধোয়ার ব্যাপারে যত্নবান হন। তাই অপরিচ্ছন্নতার কারণেও এই রোগ বাড়ে। আবার এ সময়ে ঠান্ডার প্রকোপে বিশেষত শীতকাতুরে লোকেরা নিয়মিত গোসল বা গা ধোয়ার ব্যাপারে অনেক কম যত্নবান হন। তাই অপরিচ্ছন্নতার কারণেও এই রোগ বাড়ে। এই চুলকানি থেকেই খোসপাঁচড়া ইত্যাদি চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

সোরিয়াসিস নামক ক্রনিক চর্মরোগও শীতকালে বাড়ে। শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই রোগাক্রান্তদের কষ্টও উপসর্গ বাড়তে থাকে। এই রোগে হাতে-পায়ে বা মাথায় চাকা চাকা চামড়া ছাল উঠে আলগা হয়ে যায়, ছাল তুললে পিন পয়েন্ট ক্যাপিলারি বা ছোট ছোট রক্ত বিন্দুর মতো দেখা যায়।

ইনফ্যানটাইল একজিমাও শীতে বেড়ে যায়। পিটিরিয়াসিস অ্যালবা নামক এক প্রকার একজিমা, শিশুদের গায়ে গায়ে হয়। শীতকালে এগুলো বাড়তে দেখা যায়।

তবে শীতে ছত্রাকজনিত চর্মরোগ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন একটু কমে। কারণ, শীতে ঘাম কম হয় এবং চামড়ার স্যাঁতসেঁতে ভাব একটু কম থাকে। খুব তীব্র শীতে চিলব্রেন নামক চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এটি রক্তবাহী নালি বা শিরা উপশিরার অসুখ। আঙুলের ডগা লাল হয়ে যায়। শেষে আলসারও হতে পারে। গৃহবধূদের এই রোগ বেশি দেখা যায়।

রেনডস ডিজিসও আর একটি শীতকালের ত্বকরোগ। এতে অতিরিক্ত ঠান্ডায় শিরা-উপশিরা অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। এতে আঙুলের ডগায় ব্যথা, আঙুল প্রথমে সাদা ও পরে নীলচে আকার কারণ করে, শেষে কালচে ঘা হয়। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক চর্মরোগ।

শীতের চর্মরোগ সঠিক চিকিৎসা দিয়ে আয়ত্তে আনা সম্ভব। অনেকেই ত্বকের অসুখকে তেমন গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িয়ে ফেলেন। চর্মরোগ কিন্তু জটিল আকার ধারণ করতে পারে, বিশেষত ঠান্ডায়। কাজেই যথাসময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

0Shares