মতামত

নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ আদর্শিক রাজনীতি

0Shares

রাজনৈতিক আদর্শ নিষ্ঠার কষ্টিপাথর সম্ভবত ক্ষমতাসীন হওয়ার নির্বাচন, অন্য ভাষায় সংসদীয় নির্বাচন। বিশেষ বিশেষ আদর্শের রাজনৈতিক দল যত দিন লক্ষ্য অর্জনের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে—কখনো রক্তক্ষয়ী আত্মদানে, তত দিন মনে হয় আদর্শনীতির খুঁটিটা দৃঢ়মূলই থাকে, নানা টানে নড়বড়ে হয়ে ওঠে না। অবশ্য সেটা নির্ভর করে লড়াইটা কোন ধরনের, কী জাতীয় আদর্শের। বিপ্লবী, না নিয়মতান্ত্রিক? শেষোক্ত ক্ষেত্রে একদলীয়, না বহুদলীয়?

আমাদের অভিজ্ঞতা বা ইতিহাস বলে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান থেকে লক্ষ্য অর্জনের পর ক্ষমতাসীন রাজনীতির মধ্যে প্রায়ই অবাঞ্ছিত পরিবর্তন ঘটে। আদর্শভ্রষ্টতা ও প্রভুত্ব বা কর্তৃত্ববাদ এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কখনো একনায়কত্ববাদী শাসন, যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশ্বরাজনীতিতে এজাতীয় উদাহরণ বিস্তর। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশ।

রাজনৈতিক আদর্শ বা মতাদর্শ—এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ক্ষমতার লোভ-লালসার বিকল্প শব্দ বা উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন হতে পারা এমনই একটি বিষয়, যার জন্য সব কিছু বিসর্জন দেওয়া চলে, শুদ্ধ মতাদর্শ তো বটেই। অনায়াসে জোট বাঁধা চলে সম্পূর্ণ বিপরীত মতাদর্শের সঙ্গে, এমনকি ক্বচিৎ রক্ষণশীল বা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির সঙ্গেও। এ উপমহাদেশেও এমন উদাহরণ একাধিক।

এ প্রসঙ্গে একটি কথা বলা প্রয়োজন যে কখনো কখনো একনায়কি বা স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটাতে বহুদলীয় জোটের কথিতযুক্তফ্রন্ট তত্ত্ব ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে মূলত বৃহত্তর স্বার্থে। তবু সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করা চলে না। জর্জি ডিমিট্রফের যুক্তফ্রন্ট তত্ত্বের রাজনৈতিক প্রয়োগ সম্ভবত বাংলাদেশে সর্বাধিক। কম নয় ভারতে, একক রাজনৈতিক দলের বিচ্যুতি এবং জাতীয়তাবাদী চেতনানির্ভর শক্তিমান আঞ্চলিক দলের উত্থানের কারণে। ব্যতিক্রমধর্মীয় উন্মাদনাসৃষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভুত্ব।

এজাতীয় মেরুকরণ ও সমীকরণের সর্বাধিক প্রকাশ লক্ষ করা যায় নির্বাচন সামনে আসার পর। তখন জোটবদ্ধতার এক বিচিত্র সমাহার ঘটে। শত্রু আর শত্রু থাকে না, দিব্যি মিত্র হয়ে ওঠে। এর কারণ কি সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবক্ষয়, নাকি ভোগবাদী মতাদর্শের প্রভাব, যা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আমদানি হচ্ছে।

দুই.

আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিতে এজাতীয় প্রবণতা (কারো মতে সুবিধাবাদ) কতটা যুক্তিসংগত, কতটা গ্রহণযোগ্য, তা বিচার-বিবেচনা করে দেখার মতো বিষয়। অবশ্য স্বীকার্য—এর দুই বিপরীত দিকও রয়েছে, যা একদিকে ইতিবাচক, অন্যদিকে নেতিবাচক। ইংরেজি প্রবাদে তার মর্মার্থ হলো ‘লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেকোনো মত-পথ যুক্তিসংগত।’ অনেকের কাছেই এমন নীতি গ্রহণযোগ্য নয় মূলত শুদ্ধ গণতান্ত্রিক ও মানবিক বিচারে। বলা বাহুল্য, এ ব্যাপারে ভিন্নমত বহুলদৃষ্ট।

আপাতত বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই বিতর্কিত বিষয়টির উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দেখা যায় যে গণতান্ত্রিক জাতীয়বাদীরা প্রায়ই এজাতীয় রাজনৈতিক-মতাদর্শিক বিচ্যুতির শিকার। আশ্চর্য যে ক্বচিৎ তা দেখা যায় বামপন্থী রাজনীতির একাংশেও। ব্যতিক্রম নয় ভারতীয় রাজনীতি। বরং এমন অভিযোগ কি ভুল প্রমাণিত হবে যে এর আগে ভারতীয় রাজনীতি একদিক থেকে অনেক অবাঞ্ছিত উদাহরণ তৈরি করেছে!

আপাতত বাংলাদেশের রাজনীতি এ ক্ষেত্রে কোথায়, কী অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে তার মূল্যায়ন করতে গেলে কয়েক দশক পেছন ফিরে তাকাতে হয়। একাত্তরে ভয়াবহ এক লড়াই শেষে বাঙালি মাত্রেরই প্রত্যাশা ছিল জাগতিক কষ্টের মধ্যে হলেও শান্তির সুবাতাসপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু বাস্তব ঘটনা ভিন্ন হয়ে দাঁড়ায়।

এর কারণ যেমন আদর্শিক, তেমনি রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রাধান্য নিয়ে। তাই দ্রুতই ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই রাজনৈতিক কারণে ভগ্নাংশে হলেও বিচ্ছিন্নতার পথ ধরে সহিংসতার সূচনা। সেখানেও ক্ষমতার বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল না। এই রাজনৈতিক ইতিহাস মূল আলোচ্য না হলেও একেবারে অপ্রাসঙ্গিক নয়।

কারণ পাকিস্তানি রাজনীতির ঐতিহ্যিক ধারাবাহিকতায় যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে সামরিক শাসন এবং কথিত সমরতন্ত্রী গণতান্ত্রিক রাজনীতি কারো ভাবনায় ছিল না। কারো কারো মতে, তা অবিশ্বাস্যই বটে। তবুও তা ঘটে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। সেই সঙ্গে চরম সুবিধাবাদ। অর্থাৎ ক্ষমতায় আসীন হওয়ার জন্য সব কিছুই জায়েজ।

তাই একাত্তরের রণাঙ্গনে যিনি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, তাঁর প্রশ্রয়ে একাত্তরের ঘাতক রাজনীতির ও পাকিস্তানি সেনা সমর্থক ব্যক্তিটির বাংলাদেশে প্রবেশ ও পুনর্বাসন। অস্বীকৃত বাংলাদেশে তাঁর উপস্থিতি। এমন অঘটনও সম্ভব হয়েছে যুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশে। ঘাতক শত্রু হয়ে ওঠে মিত্র ক্ষমতার প্রয়োজনে। ফলে যাঁরা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে রাজনৈতিক রাজপথে নামতে সাহস পাননি জনরোষের ভয়ে, তাঁদের রাজনীতি ক্রমেই সহজ, স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে সুবিধাবাদের হাত ধরে একদা রক্তস্নাত বাংলাদেশে।

তিন.

মূল আলোচ্য বিষয় বিচারে ওপরের বক্তব্যটুকু গৌরচন্দ্রিকা বা ভূমিকা হিসেবে বিবেচ্য। তেমন এক স্বৈরাচারী, সমরশক্তিনির্ভর শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে সংগতভাবেই গঠিত হয় তিন রাজনৈতিক পক্ষের সংগ্রামী ফ্রন্ট—দুই ভিন্নমতের জাতীয়তাবাদী ও বাম জোট। তখন একাত্তরের ঘাতক শক্তি তার সুযোগসন্ধানী রাজনীতি নিয়ে রাজপথে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে।

তাঁরা পূর্বোক্ত স্বৈরাচারবিরোধী ফ্রন্টের অংশ না হলেও তাঁদের সমর্থক নীতি গ্রহণ করেছিল রাজপথে অবস্থান পাকা করতে। ভিন্নমতের অবকাশ থাকা সত্ত্বেও বলব—ওই তিন রাজনৈতিক শক্তির ফ্রন্ট এ ক্ষেত্রে আদর্শিক বিবেচনায় ওই ঘাতক দলের সমর্থন প্রশ্নে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি এই বলে যে তাদের সুবিধাবাদী সমর্থন কাম্য নয়। কারণ ওই ঘাতক রাজনীতি তখনো যথেষ্ট দুর্বল, তাদের জনসমর্থন প্রায় নেই বললে চলে। গর্তে লুকানো সাপগুলোই ছিল তখন তাদের সমর্থক, যারা ক্রমেই মাথা তুলে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগে। এটা ছিল রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব ওই তিন জোটের পক্ষে। এটা প্রত্যাশিত ছিল না অন্তত বাম রাজনীতির কাছ থেকে।

কিন্তু এই যে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের নীরব প্রকাশের সূচনা, পরবর্তীকালে এই প্রবণতার বাড়বাড়ন্ত ঘটেছে ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক স্বার্থের টানে, দল থেকে দলে। পরবর্তীকালে এর প্রভাব পড়েছে সংস্কৃতি অঙ্গনে, বিভাজিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। অথচ সংগত কারণে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজনীতি নিয়ে আমাদের অনেক গর্ব। সেই সংস্কৃতি অঙ্গনের বড়সড় অংশকে সুবিধাবাদ স্পর্শ করেছে। এমনটি আকাঙ্ক্ষিত ছিল না, এখনো আকাঙ্ক্ষিত নয়।

এই সুবিধাবাদী প্রবণতা—রাজনীতি ও সংস্কৃতির দুই দিকেই, এর বিরুদ্ধে সচেতনতা যেমন দরকার, তেমনি দরকার এর বিরুদ্ধে লড়াই, বলা চলে সাংস্কৃতিক লড়াই, ওই অবাঞ্ছিতকে বর্জনের লক্ষ্যে এ প্রবণতা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য কিছু ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক যে নির্বাচন উপলক্ষে এই সুবিধাবাদী প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে, অবসান দূরে থাক।

চার.

গুটিকয় উদাহরণ উল্লিখিত বিষয়টির বাস্তবতা আরো বুঝতে সাহায্য করবে। তার আগে ভিন্ন একটি বিষয় রাজনৈতিক গুরুত্বে উল্লেখযোগ্য, যা আমাদের রাজনীতির বিচিত্রগামী চরিত্র বোঝারও সহায়ক বলা যেতে পারে। পূর্বোক্ত ত্রিশক্তির আন্দোলনে কয়েকটি তাজা প্রাণের আত্মদানের বিনিময়ে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন। তাতে প্রথম প্রধান দলটির বদলে দ্বিতীয় দলটির অভাবিত বিজয় অনেককে বিস্মিত করে। এমনকি কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক বিশ্লেষককে।

আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় একটি ঘাটতি, এজাতীয় অঘটন নিয়ে গভীর বিচার-ব্যাখ্যা কমই হয়ে থাকে। অনন্ত এ অঘটনটি নিয়ে কোনো নির্মোহ, নিরপেক্ষ ও সূক্ষ্ম রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অভিজ্ঞদের তরফে হয়েছে বলে মনে হয় না। অথচ এজাতীয় বিশ্লেষণ থেকে পরবর্তী রাজনীতির শিক্ষাগ্রহণ সম্ভব হতো এবং তা অপরিহার্যও বটে।

যাহোক, এ অবস্থায় পরাজিত দলে জন্ম নেয় ক্ষোভ। আর ক্ষোভ থেকে কখনো জন্ম নেয় রাজনৈতিক সুবিধাবাদ। তাতে থাকে ক্ষমতাসীন হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এ ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটেছে বলে মনে হয়। তাই এ সময়পর্বে জাতীয়তাবাদী দলটির শক্তি সঞ্চয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা পুরোপুরি আদর্শবাদসম্মত ছিল না।

প্রসঙ্গত, একটি ঘটনা উল্লেখের দাবি রাখে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী এবং বিএনপি সমর্থিত অনুরূপ প্রার্থী দুজনেই একাত্তরের ঘাতক দলের প্রধান গোলাম আযমের কাছে ধরনা দিয়েছিলেন তাঁর দোয়া প্রার্থনা করে। যুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশের অন্য ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক ও চরম সুবিধাবাদী বলেই চিহ্নিত করতে হয়।

এভাবেই বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে আদর্শিক বিচ্যুতির জন্ম ও প্রকাশ ঘটেছে, ক্রমান্বয়ে তা বেড়ে চলেছে। তাই একুশ শতকে পৌঁছেও স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তিরূপে পরিচিত রাজনৈতিক দলটি নিছক নির্বাচনী জয়ের লক্ষ্যে একটি ইসলামী গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা করে, যদিও শেষ পর্যন্ত শরিক বাম ও প্রগতিবাদী শক্তির আপত্তির মুখে সমঝোতা বাতিল করা হয়।

প্রসঙ্গত, এজাতীয় একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা চলে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বা শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চকে অকার্যকর করা কিংবা রাজাকার-অপরাধীদের বিচার বিলম্বিতকরণ ইত্যাদি ঘটনার বিশদ উল্লেখ না করে সর্বশেষ ঘটনার বিবেচনাই নির্বাচনী সুবিধাবাদ বোঝার পক্ষে যথেষ্ট হবে।

যেকোনো কারণেই হোক কওমি মাদরাসাভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাশা, বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্রে (কট্টর শরিয়তপন্থী, সৌদি আরবের মতো) পরিণত করার উদ্দেশ্য নিয়ে হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় নামে অবরোধে, আওয়ামী লীগ শাসনের পতন ঘটাতে। সেই ভয়াবহ উদ্যোগকে শাসনযন্ত্র আত্মরক্ষার্থে চরমপন্থায় প্রতিহত করতে হয়েছিল। মানুষ, বিশেষত ঢাকাবাসী এ প্রচেষ্টাকে অভিনন্দিত করেছিল (২০১৩)।

রাজনীতির কী পরিহাস যে ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করার ভাবনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূলশক্তি সেই কট্টর ইসলামপন্থী হেফাজতের সঙ্গে নির্বাচন সামনে রেখে যেভাবে সমঝোতায় এসেছে, তাতে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষা হচ্ছে বলে মনে হয় না। আরো অবিশ্বাস্য যে তাদের দাবি মেনে পাঠ্যপুস্তকে যে অবাঞ্ছিত পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার ঘটক এক একদা কমিউনিস্ট নেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় শিক্ষামন্ত্রীর আসনে।

আরো বিস্ময়কর যে এমন একাধিক প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ উচ্চারিত হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। যেমন গণতন্ত্রী নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বা সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে, তেমনি বামপন্থী রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে। এ রাজনীতির পরিণাম ভেবে দেখার মতো, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিক চরিত্র বিচারে।

আলোচনার দৈর্ঘ্য বা আয়তন কমাতে আপাতত এটুকু বলে কথা শেষ করতে চাই যে রাজনীতির এই অবাঞ্ছিত চরিত্রবদল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রকট। তাই ড. কামাল হোসেনের পক্ষে সম্ভব হয়েছে গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে জামায়াতসংশ্লিষ্ট বিএনপি জোটের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গড়া। আরো চমৎকার উগ্র মুক্তিযোদ্ধানায়ক কাদের সিদ্দিকীর ঐক্যফ্রন্টে যোগদান।

এমন সব উদাহরণ থেকে প্রতীয়মান, নির্বাচন ও ক্ষমতার টানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র-রাজনীতি-সংস্কৃতি সুবিধাবাদী পরিণতির কোন মেরুতে গিয়ে পৌঁছেছে? এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণামের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ কথা, হেফাজতের কয়টা ভোট আওয়ামী লীগ পাবে, তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক আস্থা-অনাস্থার।

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী

0Shares