মতামত

মাননীয় জেলা প্রশাসক সমীপেষু বিবেক নির্বাসন দিয়ে নির্বাচন নয়

0Shares

১৯৬০-এর দশকে আইউব খাঁ ও মিস ফাতিমা জিন্নাহর ভোটের লড়াই, ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন ও স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সব ধরনের নির্বাচনের আয়োজক তথা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন হলেও মাঠপর্যায়ের সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকে মাঠ প্রশাসন। আরও খোলাখুলিভাবে বলা যায়, জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ প্রধান অর্থাৎ এসপি, উপজেলার ইউএনও (১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উপজেলা ছিল থানা। আজকের অনেক জেলা ছিল মহকুমা, তখন মহকুমার দায়িত্বে ছিলেন মহকুমা প্রশাসক বা এসডিও), পুলিশের এসডিপিও ও তাঁদের সহকর্মীরা। ব্রিটিশ আমল থেকে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), যাঁর আরেক পদবি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিএম জেলা প্রশাসনের সর্বাধিনায়ক। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, ঠেকায়-অঠেকায়, আপদে-বিপদে শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য ডিসি/ডিএম সাহেব ছিলেন ‘মাই-বাপ’। এই কর্মকর্তাটির যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর আপামর জনসাধারণের ছিল অগাধ আস্থা। আর দায়িত্বশীল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার অবর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারকেও সব ব্যাপারে এই আমলাতান্ত্রিক সিস্টেমের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করতে হতো। যার ফলে জেলার আইন-শৃঙ্খলা, রাজস্বব্যবস্থা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের শিরোমণি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও তাঁর মাঠপর্যায়ের সহকর্মীরা। সাধারণ মানুষ বেওয়ারিশ লাশ দাফন থেকে শুরু করে এতিমখানা পরিচালনা, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, গবাদি পশুর মড়ক, বন্যা-খরা মোকাবেলা, খেলাধুলার আয়োজন ও বিস্তার ইত্যাদি আল্লাহর দুনিয়ার সব কাজের কাজি হিসেবে ডিসি এবং এসডিওর শরণাপন্ন হতো। ‘হুজুর মাই-বাপ, আপনি একটা কিছু করেন’—এ ধরনের সংলাপ ছিল এই উপমহাদেশের মুখে মুখে উচ্চারিত একটি ‘কমন ডায়লগ’। আর ‘হুজুরও’ যেন ছিলেন অসীম ক্ষমতার উৎস, অনন্ত করুণার আধার—সব ব্যাপারে সামনে থেকে নেতৃত্বদানই ছিল তাঁর কাজ। জনপ্রশাসনের আলোচনায় ডিসিকে তাই কেউ কেউ আখ্যায়িত করেছেন ‘হাইড্রা হেডেড মনস্টার’ বা বহু শিরবিশিষ্ট দানব বলে। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে।

ডিসির ওপর এমন গুরুদায়িত্ব অর্পণের প্রধান কারণ ছিল ডিসির আইনি ক্ষমতা। সেই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন পদটি সৃষ্টি করে, তখন তাঁর মূল পদবি ছিল কালেক্টর এবং মূল দায়িত্ব ছিল কোম্পানির পক্ষে যাবতীয় রাজস্ব—তা ভূমি রাজস্ব বা অন্য যেকোনো কর আদায়ই হোক না কেন—আদায় এবং তা আদায়ের জন্য ভূমি প্রশাসনসহ সামগ্রিক প্রশাসনকার্য পরিচালনা। ফলে স্বাভাবিকভাবে জেলার মুখ্য আধিকারিক কালেক্টর সাহেবকে বিচারকার্য সম্পাদনের দায়িত্বও দেওয়া হয়। জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ও অপরাধ দমনের জন্য নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীও তাঁর অধীনে ন্যস্ত করা হয়। এত ক্ষমতা পেয়ে একজন তরুণ সিভিল সার্ভেন্টের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় দুই শ বছরের ব্রিটিশ শাসন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এই অশেষ ক্ষমতাধর কালেক্টর/ডিএম/ডিসি বা এসডিওরা যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে ব্রিটিশ আমল বা পাকিস্তানি আমলে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে গেছেন এবং দৃশ্যমান সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছেন। মাঝে মাঝে কিছু কিছু কৃষ্ণ মেষের (‘ব্ল্যাক শিপ’) প্রাদুর্ভাব যে ছিল না তা নয়; কিন্তু দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলানুগত্য ও গোষ্ঠীপ্রীতির অভিযোগ সেসব আমলে সরকারি চাকরির উচ্চপর্যায়ে কদাচিৎ শোনা যেত। তবে হ্যাঁ, তৈলমর্দনের রোগ সে আমলেও ছিল, এখনো আছে।

এখন অবশ্য আর সেই রামও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। নেই সেই বাবরি মসজিদও। এখন নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে জনপ্রশাসনের চেহারা-সুরত অনেক বদলে গেলেও ব্রিটিশদের প্রবর্তিত সেই মৌলিক প্রশাসনিক অবকাঠামো আজও অবিকৃতই আছে বলা যায়। এখনো আমাদের প্রশাসনব্যবস্থা আমলানির্ভর। ডিসির ক্ষমতা আগের চেয়ে সংকুচিত হয়ে গেলেও তার দাব-রোয়াব, তর্জন-গর্জন অনেকটা হ্রাস পেলেও মরা হাতি এখনো লাখ টাকা। আর সাধারণ মানুষের কাছে এখনো ডিসি সাহেব আগের মতো ‘মাই-বাপ’ না হলেও খালা-খালু তো বটেই। (আপা-দুলাভাই না হলেই হলো!)

স্বাধীনতার পর প্রায় অর্ধ শতাব্দী পার হতে চললেও সংবিধানের ৩য় পরিচ্ছেদের বিধানানুযায়ী স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হয়নি। এটা স্পষ্টতই সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে মাঠ প্রশাসনে সরকারের সব নির্বাহী দায়িত্ব আমলারাই পালন করে আসছেন। অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের সময় সিলেটে গণভোট এবং ১৯৫৪, ১৯৬৪ ও ১৯৭০ সালের বড় বড় নির্বাচন ইত্যাদিতে সব নির্বাহী দায়িত্ব পালন করেছেন আমলারা। সেই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই ডিসি, সেই এসপি, সেই ম্যাজিস্ট্রেটকেই সব সময় মুখ্য দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে ও হচ্ছে।

দুই.

এখানে অভিজ্ঞতার আলোকে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে চাই। পাকিস্তানি আমলে কোনো নির্বাচন, এমনকি ১৯৭০-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি নির্বাচন, যেটিতে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানপন্থী দলসমূহের বিরুদ্ধে বিশাল বিজয় অর্জন করেছিল এহিয়া খাঁর দমন-পীড়নমূলক শাসনামলে, সেটিও কোনো ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ নির্বাচন ছিল না। ভোটকেন্দ্র দখল, অবাধে সিল-ছাপ্পড় মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, তথাকথিত সূক্ষ্ম ও স্থূল কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের তাড়িয়ে দেওয়া—এ সবই হচ্ছে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের কলঙ্কময় ‘অর্জন’। আর এসব ‘অর্জনের’ মসিলিপ্ত ইতিহাসে, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কিছু কিছু আমলা-কামলার নামও লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ ব্যতীত কোনো নির্বাচনে দুর্বৃত্তপনা বা নানাবিধ কারচুপি সংঘটিত হতে পারে না। কোনো ভোটকেন্দ্রে কর্তব্যরত নির্বাচনী কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ন্যায়ের পক্ষে, আইনের পক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে কোনো বাপের বেটার সাধ্য নেই উল্টাসিধা কিছু করে। তেমনি বড় কর্তা যদি নিজের বিবেক পরিষ্কার রেখে চোখ-কান খোলা রাখেন, তবে ভোটের ফলাফল নিয়ে কেউ কারচুপি করতে পারবে না, তা সে কাগজে-পত্রেই হোক, আর ইভিএম নামক যন্ত্রেই হোক। (ভালো কথা, বাচ্চারা যেমন একটা বাইসাইকেলের বায়না ধরে ঘ্যান ঘ্যান করতে করতে অবশেষে মা-বাবার কাছ থেকে তা আদায় করেই ছাড়ে, তেমনি আমাদের নির্বাচন কমিশন ইভিএম কিনেই ছাড়বে দেখছি। মা-বাবা যতই বোঝান না কেন, সাইকেল চালানোর বয়স এখনও হয়নি তোমার, সাইকেল সম্বন্ধে তোমার কোনো ধারণাই নেই, তোমাকে কেউ যে সাইকেল চালানো শেখাবে তেমন ভাই-বন্ধুও নেই, তাতে কোনো কাজ হয় না, বাচ্চাটা সাইকেল কিনবেই। এতে যে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজ কোষাগার থেকে উড়াল দিয়ে বেরিয়ে যাবে সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। খেয়াল থাকবে কেন, টাকা তো দেবে গৌরী সেন। হায় রে জিদ!)

বলছিলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার কথা। একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ১৯৮৬ সাল। আমি তখন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার। সেদিন ছিল বোধ হয় অক্টোবর মাসের ১৫ বা ১৬ তারিখ। দিনের বেলা দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হয়ে গেছে। ডিসিরা (রাজশাহী বিভাগে তখন ছিলেন ১৬ জন ডিসি) বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল ঢাকায় পাঠাতে শুরু করেছেন। রাত ২টার দিকে ঢাকা থেকে ফোন করে এক ‘পাওয়ারফুল’ মন্ত্রী আমাকে বিভিন্ন জেলার ভোটের ফলাফল কৌশলগত কারণে পরিবর্তন করে তাঁর নির্দেশমতো ভোটের অঙ্ক তৈরি করে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বললেন। এটা নাকি শীর্ষতম পর্যায়ের নির্দেশ। আমি বললাম, সরি, এটা সম্ভব নয়।…তাঁর স্বর যতই চড়ে, আমার ‘না’ ততই বড় হতে থাকে। তিনি বললেন, অন্য কমিশনাররা তো রাজি হয়েছেন, আপনি কেন পারবেন না? আমি বিনয়মিশ্রিত দৃঢ়তার সঙ্গে বললাম, সরি, আমার দ্বারা এ কাজ হবে না।…বিষয়টি ওই রাতেই তৎকালীন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি জনাব মাহবুবুজ্জামানকে জানালাম। তিনি বললেন, যা করেছ ঠিকই করেছ।…এভাবে আমার ‘না’ জয়যুক্ত হলো, ‘না’ জয়যুক্ত হলো, ‘না’ জয়যুক্ত হলো!

বর্তমান সময়ের প্রশাসনে আমার সন্তানতুল্য কর্মকর্তাদের একটি কথা বলতে চাই। সারা জীবন দেখেছি সরকারি চাকরিতে কোনো কিছুতে না বলাটা খুব কঠিন, হ্যাঁ বলা সহজ। সেটা কোনো নেতার দাবিদাওয়াসংক্রান্ত কিছু হোক আর মন্ত্রণালয়ের ‘বস্’ মন্ত্রীর অযৌক্তিক নির্দেশনা বা প্রস্তাবই হোক। এমনিতে তুমি কারো সঙ্গে কোনো ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করলে এটা সেই ব্যক্তি পছন্দ করবে না। আর তা যদি হয় কোনো নাজায়েজ, বেআইনি প্রস্তাব তাহলে তো আর কথাই নেই। একটি ফাইলে তোমার দস্তখত আদায় করতে বা একটি খুনের মামলায় জামিন পেতে বা একটি ভুয়া বিল পাস করাতে কেউ তোমাকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে চাইল, আর তুমি দৃঢ়তার সঙ্গে বললে, ‘সরি, নো’। ব্যস্, অমনি সেই লোক ভেতরে ভেতরে ক্ষেপচুরিয়াস হয়ে তোমাকে বাঁশ দিতে উঠেপড়ে লাগবে। হয়তো সে সফলও হতে পারে। কিন্তু না, তুমি মনপুরা না হয় ভূরুঙ্গামারী না হয় খাগড়াছড়িতে বদলি হও কিংবা ওএসডি হও কোনো মন্ত্রণালয়ে (ওএসডি মানে অবশ্যই অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি, তবে এখানে ধরে নিতে হবে ওএসডি মানে অফিসার ইন সিরিয়াস ডিফিকাল্টি বা মাসের পর মাস, কখনোসখনো বছরের পর বছর অফিসার ইন সার্চ অব ডিউটি), ডোন্ট কেয়ার। তুমি তোমার বিবেকের কাছে, তোমার সৃষ্টিকর্তার কাছে তো পরিষ্কার থাকবে। দিনশেষে দেখবে হৃদয়কোণে সঞ্চিত তোমার সততা, নিয়মনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতার মণিমুক্তোগুলো নাড়াচাড়া করে দেখতে কী যে ভালো লাগছে।

তিন.

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, আপনারা যে যেখানে থাকুন না কেন আপনাদের সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ আসছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। ডিসি, এসপি, ম্যাজিস্ট্রেট, ওসি তো বটেই, এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে নির্বাচন কমিশন নানা রকম নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করবে। কোনোটা বড় দায়িত্ব, কোনোটা অপেক্ষাকৃত ছোট দায়িত্ব। কিন্তু সবটাই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এতে অসম্মতি জানানো যাবে না। কারণ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে সাংবিধানিকভাবে প্রশাসনিক ‘বস্’ সরকার নয়, নির্বাচন কমিশন। ওই দিনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি যদি সুচারুরূপে অনুষ্ঠিত হয়, যদি কোনো অন্যায় প্রশ্রয় না পায়, তাহলে মনে রাখবেন, সে সাফল্যের বড় দাবিদার হবেন আপনারা। একটি সফল নির্বাচন হবে গণতন্ত্রের অভিযাত্রার পথে, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করার পথে একটি বিরাট পদক্ষেপ। বিশ্বাস করুন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছে। সব দলের অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু পক্ষপাতহীন একটি ভালো নির্বাচন বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় সকল মানুষের আজ প্রাণের দাবি। আপনারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিশ্চয়ই তাদের নিরাশ করবেন না।

এখন এই সময়ে বাংলাদেশের আকাশে-বাতাসে অদৃশ্য পাখা মেলে টাকার ওড়াউড়ি শুরু হতে যাচ্ছে। হয়তো হয়েও গেছে। মাছ-মাংসের বাজার কী, ভোটের বাজারের মতো গরম বাজার আর আছে নাকি? এই সময়ে অনেক শয়তান লোক কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নিয়ে এসে হাজির হবে আপনার কাছে, বিনয়ে আইসক্রিমের মতো গলে গিয়ে বলবে, স্যার, এই বান্ডিলটা রাখুন, ভোটে জেতার পর আরও দেব। অথবা বলবে, আপনার প্রমোশনের ফাইলটা অমুক ভাইকে ধরে এক সপ্তাহের ভেতর পাস করিয়ে দেব। আর না হয় বলবে, আল্লার কসম, আপনার ঢাকার বদলিটা না করিয়ে অন্য কোনো কাজেই হাত দেব না। ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে প্লিজ, আপনার বিবেকের দিকে তাকিয়ে দেখুন একবার। দেখবেন, আপনার বিবেক আপনাকে বলছে, ‘বল, না। আমি আমার দেশের সঙ্গে, ১৭ কোটি দেশবাসীর সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিষ্কলুষ নির্বাচনের জন্য আমি ওয়াদাবদ্ধ। ইউ ব্লাডি সোয়াইন, গেট আউট, আ গেট লস্ট।’

প্রায় চার দশক দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করে জীবনসায়াহ্নে এসে এখন এই প্রতীতি জন্মেছে : হে আমার সন্তানতুল্য প্রিয় সরকারি কর্মচারীরা, ইউ, ইট’স্ ইউ, হু ক্যান মেইক দিস্ কান্ট্রি, অর ব্রেক দিস্ কান্ট্রি। কী করবে তোমরা? মেইক অর ব্রেক? তোমাদের ছেলেমেয়ে নাতিপুতির জন্য একটি সুন্দর স্বপ্নিল, নাকি একটি শ্বাপদসংকুল জরাক্লিষ্ট আগামী দিনের বাংলাদেশ রেখে যেতে চাও?

৩০ ডিসেম্বর কিন্তু নিয়ে আসছে একটি বহুপ্রতীক্ষিত সুযোগ। কী মাননীয় জেলা প্রশাসক, মানেন তো?

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

mkarim06@yahoo.com

0Shares