মতামত

নতুন ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই

0Shares

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে দেশে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াতসহ বামপন্থী দলগুলো বর্জন করেছিল। এবার তাদের নির্বাচন বর্জন করার কোনো সুযোগ নেই। করলে নিবন্ধন বাতিল হবে। আর জামায়াতের নিবন্ধন তো এমনিতেই বাতিল হয়েছে। তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে বিএনপি জিগির তুলেছিল, তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো অবস্থায়ই নির্বাচনে যাবে না। একদল নষ্ট ‘সুশীল’ আর কিছু মিডিয়া বিএনপির বক্তব্যে বাতাস দিয়ে ক্রমাগত বলতে থাকল, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে অবধারিত পরাজয় মেনে নিয়েই বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। তবে সংবিধান বলছে, এই সরকারের অধীনেই তাদের নির্বাচনে যেতে হবে এবং ঘটনাচক্রে এখনো সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরও চক্ষুলজ্জা বলে একটা কথা আছে না। অগত্যা তাঁরা শরণাপন্ন হলেন ড. কামাল হোসেনের। ড. কামাল হোসেন নিঃসন্দেহে একজন প্রতিথযশা আইনজীবী। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে এবং রাজনীতিতে তাঁর যা কিছু অর্জন তা বঙ্গবন্ধুর ছায়াতলে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনেরও মৃত্যু ঘটে। কিছুদিন বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে। পারেননি, কারণ তাঁর সেই রাজনৈতিক যোগ্যতা ছিল না। তারপর সটকে পড়েছেন। গণফোরাম নামে একটি ওয়ানম্যান পার্টি গড়েছিলেন। বেশি দূর অগ্রসর হতে পারেননি। বর্তমানে কিছু তামাদি রাজনৈতিক নেতার সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মূল উদ্দেশ্য আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ফেলে দিতে হবে। এমনটা তাঁর সঙ্গে যাঁরা কাতারবন্দি হয়েছেন তাঁরা এরই মধ্যে ঘোষণা করেছেন। বিএনপিও শেখ হাসিনাকে ফেলে দিতে চায়। যেহেতু ড. কামাল হোসেন গংয়ের লক্ষ্যও তাই, সেহেতু বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট এক হতে বেশি সময় লাগল না। সঙ্গে পেয়ে গেলেন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে। সবাই মিলে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ ব্যবহার করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সবাই মিলে বিএনপির পলাতক ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্কাইপের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা সম্পর্কে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন বা দিয়েছেন।

সামনের নির্বাচনে প্রায় ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, যাঁদের মধ্যে আড়াই কোটি ভোটারকে বলা যেতে পারে তরুণ, যাঁদের বয়স ১৮ থেকে ২৬ বছর। এঁদের মধ্যে আবার এক কোটি ২১ লাখ ৭৭ হাজার ভোটার এবার প্রথমবার ভোট দেবেন। এই বিশাল তরুণ ভোটাররাই আগামী নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের অন্যতম নিয়ামক। এঁদের বেশির ভাগের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এঁরা নিদেনপক্ষে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। অনেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। এঁদের সবার কাছে মোবাইল ফোন না থাকলেও প্রয়োজনে অন্য কারো কাছ থেকে নিয়ে তা ব্যবহার করতে পারেন। এঁরা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাভোগী। এঁদের বেশির ভাগের বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে, সেই সুবাদে অনেকেই আকাশসংস্কৃৃতির সঙ্গে পরিচিত। এঁরা কেউই খালি গায়ে বা খালি পায়ে থাকেন না, যা এঁদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের অনেককে থাকতে হতো। রাতে খালি পেটে ঘুমাতে যায় তরুণের সংখ্যা হয়তো আছে, তবে তা হাতে গোনা। এঁদের একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হয় বিদেশে ভ্রমণ করেছেন অথবা বিদেশ সম্পর্কে যৎসামান্য হলেও খোঁজখবর রাখেন। নিজে আয়-রোজগার করে তেমন তরুণের সংখ্যাও কম নয়। এই তরুণদের প্রায় অর্ধেক আবার নারী, যাঁদের অনেকেই আবার তাঁদের পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেক ভাগ্যবতী। কারণ এঁদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো স্তর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন বা করছেন, তেমন নারীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এককথায় এই তরুণরা আমাদের প্রজন্মের, যাঁদের আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম বলতে পছন্দ করি তাঁদের চেয়ে অনেক বেশি ভাগ্যবান এবং এমন একটি বাংলাদেশে বাস করে যে বাংলাদেশ অর্জনের জন্য ৩০ লাখ বাঙালি নিজের জীবন দিয়েছেন আর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসর জামায়াত আর আলবদরদের হাতে দুই লাখ মা-বোন তাঁদের ইজ্জত খুইয়েছেন। সেই ৩০ লাখ শহীদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাঁরা এই নতুন প্রজন্মের নিকটাত্মীয়, এমনকি মা-বাবা, ভাই-বোনও হতে পারেন। ইজ্জত যাঁরা খুইয়েছেন তাঁদের মধ্যে হয়তো বর্তমান প্রজন্মের অনেকের খালা-নানিও আছেন।

বর্তমান প্রজন্মের ফ্ল্যাশব্যাকে একটু ফিরে যেতে চাই, ১৯৭২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়কালে। মুক্তিযুদ্ধ শেষ। সারা দেশ একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে। বারুদ আর পোড়া গলিত লাশের গন্ধ তখনো বাতাসে, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। যুদ্ধের বীভৎসতা থেকে বাঁচতে ভারতে উদ্বাস্তু হয়ে চলে গিয়েছিলেন এক কোটি মানুষ। আর এক কোটি দেশের অভ্যন্তরে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন। তেমনি এক ভয়াবহ সময়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মৃত্যুকে জয় করে দেশে ফিরলেন বাংলা ও বাঙালির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ১২ জানুয়ারি গঠিত হলো নতুন মন্ত্রিসভা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োগ করলেন। পাশে পেলেন বন্ধু রাষ্ট্র ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু পূর্ব ইউরোপীয় দেশকে। অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্রটিকে গলা টিপে হত্যা করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আরব রাষ্ট্র। দেশের ভেতর অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আত্মগোপনকারী জামায়াত-শিবির ও অতি বামপন্থীরা। এরা কেউই বাংলাদেশ স্বাধীন হোক, তা চায়নি। সে এক ভয়াবহ দুঃসময়। কেমন দুঃসময় তার দু-একটি উদাহরণ হলো : পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের আগে দেশের দুটি সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম ও মোংলায় হাজার হাজার ভাসমান মাইন (বোমা) বসিয়ে তা অকার্যকর করে দিয়েছে। কোনো জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারছে না বা বন্দর থেকে বের হতে পারছে না। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও ভৈরব ব্রিজ দুটিই ধ্বংসপ্রাপ্ত। দেশের প্রায় চার হাজার ব্রিজ-কালভার্ট উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খাদ্যগুদামগুলোতে এক কেজি খাদ্যও মজুদ নেই। কারণ পাকিস্তান সেনাবাহিনী তা ধ্বংস করে ফেলেছে। জামা বানানোর জন্য দুই মিটার রিলিফের কাপড় দেওয়া হবে। দুই দিন লাইনে দাঁড়িয়ে না পেয়ে ফেরত আসতে হয়েছে। আমার ছোট ভাইয়ের জন্য এক পাউন্ড গুঁড়া দুধ দরকার। বাবা জেলা প্রশাসকের অফিসে দুই দিন লাইন দিয়ে বরাদ্দ পেলেন। বিশ্বের অনেক বড় মাপের অর্থনীতিবিদরা জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু ভারত থেকে ফিরে আসা আর অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে লাগলেন। খাদ্য নিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো অস্ট্রেলিয়া। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হলো। এরই মধ্যে ২০০টির বেশি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের এক ট্যাক্সি ড্রাইভার আমার কাছে জানতে চান আমি ভারতীয় কি না। তাঁকে বলি না, বাংলাদেশের। বাংলাদেশ কোথায়, তিনি চেনেন না। একাত্তরের যুদ্ধের কথা বলতেই সেই ট্যাক্সি ড্রাইভার বলে উঠলেন—‘ও মুজিব কান্ট্রি? তোমরা তো তোমাদের নেতাকে মেরে ফেলেছ।’ আমি লজ্জিত হই। বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো বাঙালিকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করেছিলেন। কিন্তু যখন সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই তিনি দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সাড়ে তিন বছরের মাথায় ঘাতকদের হাতে নিহত হন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছিল একটি মিনি পাকিস্তান। বাঙালি রাতারাতি বাংলাদেশি হয়েছে। ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় স্থান পেয়েছে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে, তাঁরা প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের অনেকে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে পরিস্থিতির পরিবর্তনের একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু তা তিনি হেলায় হারিয়েছেন। আর ২০১৩-১৪ সালের পেট্রলবোমা মেরে নিরীহ মানুষ খুন করার ইতিহাস তো এই প্রজন্মের সবারই জানা।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ১৯৯৬-২০০১, ২০০৯-২০১৪, ২০১৪-২০১৮—এই তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেছেন। এই তিন মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কোন উচ্চতায় গেছে, তা না বললেও দেশের নতুন প্রজন্মের না বোঝার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল। একসময় যে দেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ হিসেবে পরিচিত হতো, সেই দেশ এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। এ দেশের মানুষ এখন আর রিলিফ নেয় না। কখনো কখনো রিলিফ দেয়। ১০ বছর আগেও যে দেশে মাত্র সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, সেই দেশ এখন ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের সুবিধা পায়। রূপপুরে বসছে পারমাণবিক আর রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এই দুটি উৎপাদন কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করলে বাংলাদেশ সীমিত আকারে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতেও সক্ষম হবে। ১০ বছর আগেও বহির্বিশ্বে যে বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো কদর ছিল না, সেই পাসপোর্ট নিয়ে বাঙালিরা এখন ৪২টি দেশে আগমনী ভিসা (on arrival) নিয়ে বর্তমানে ভ্রমণ করতে পারে। গত ১০ বছরে দেড় কোটি মানুষের জন্য দেশের ভেতরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দেশে নতুন নতুন স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কারণে তরুণসমাজের জন্য শিক্ষা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্মুক্ত। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে টিআইবির দুর্নীতি সূচকে পর পর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত ১০ বছরে সেই দুর্নাম শুধু ঘোচেনি, বর্তমানে তার স্থান ১৭তমতে নেমে এসেছে, আর এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই। এই ১০ বছরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতার (purchasing power parity) ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন ৩৭তম অর্থনৈতিক শক্তি। বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৭.২৮ শতাংশ। এই ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৬তম। গত এক দশক বাংলাদেশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের ওপরে ধরে রেখেছে, যা শ্রীলঙ্কা ছাড়া এশিয়ার আর কোনো দেশ ধরে রাখতে পারেনি। বিগত জোট সরকারের আমলে আমাদের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ নির্ভর করত বৈদেশিক ঋণ আর খয়রাতি সাহায্যের ওপর। বর্তমানে উন্নয়ন ও পৌনঃপুনিক বাজেটের ৯০ শতাংশই আসে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। তার ওপর নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে বলতে পেরেছেন, তিনি পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে করবেন। পদ্মা সেতুর এখন ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বদরবারে বাঙালিদের একটি পরিচয় বা আইডেনটিটি তৈরি করেছিলেন, আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে পরিচয় করিয়ে একটি সম্মানের আসনে বসিয়েছেন। এখন উন্নয়নশীল দেশগুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তাঁর দেশের উন্নয়নের কাহিনি শুনতে চায়।

তরুণ প্রজন্মের অনেকেই প্রথমবার আগামী নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই প্রজন্ম আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং প্রজ্ঞাবান। ভালো-মন্দ বিচার করার সক্ষমতা তাঁদের পূর্বসূরির চেয়ে তাঁদের অনেক বেশি। এটি আশা করা যেতে পারে, তাঁরা চটকদার কথামালার রাজনীতির ওপর বিশ্বাস না করে তাঁদের নিজস্ব বিবেক ব্যবহার করে ও সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আগামী ৩০ তারিখ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মনে রাখতে হবে, তাঁদের ৩০ লাখ পূর্বসূরি তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাঁদের বর্তমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বেদিতে উৎসর্গ করেছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারা বজায় থাকলেই তাঁদের সেই আত্মত্যাগ সম্পূর্ণতা পাবে।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

0Shares