জানা-অজানা

যে ৫ রোগ থাকলে গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ

0Shares

গর্ভধারণের আগে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এমন অনেকগুলো বিষয় আছে যেগুলো মাথায় না রেখে গর্ভধারণ করলে বিপদ ঘটতে পারে। আসুন জেনে নেই কী কী অবস্থায় গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ।

১। ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়েদের সন্তান অস্বাভাবিক অবস্থায় জন্মগ্রহণ করতে পারে। আবার দেখা যায়, অনেক সময় সন্তান পেটে পানি নিয়ে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে আগে আপনাকে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং গর্ভধারণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আর যদি গর্ভধারণের পর ডায়াবেটিস ধরা পরে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে, সাথে এটা নিশ্চিত করতে হবে আপনার সন্তান এমন কোন হসপিটাল বা ক্লিনিকে জন্মগ্রহণ করবে যেখানে ভাল অবসটেটিশিয়ান, অ্যানেশথেটিস, নিউনেটোলজিস্টসহ সব ধরনের উন্নত সুযোগ সুবিধা থাকে।

২। উচ্চ রক্তচাপ:

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর আশঙ্কা অনেকাটা বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপের জন্য বাচ্চার ওজন কম হতে পারে, বাচ্চা অপরিণত হতে পারে এমনকি মায়ের আগে থেকে রক্তপাত শুরু হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। শুধু তাই নয়, উচ্চ রক্তচাপ মায়ের হার্ট, চোখ ও কিডনির জন্য ক্ষতিকারক হয়।

৩। অতিরিক্ত ওজন:
গর্ভাবস্থার জন্য আরও একটি অন্তরায় হতে পারে আপনার অতিরিক্ত ওজন। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের তালিকায় মাত্রাতিরিক্ত ওজন বেশ বড় একটা জায়গা দখল করে আছে।

আপনি যদি অধিক ওজনের অধিকারিণী হয়ে থাকেন তাহলে সন্তান নেওয়ার আগে ওজন কমিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। গর্ভকালীন সময় ‘বিএমআই’ বা বডি ম্যাস ইনডেক্সের পরিমাণ ৩০ কেজি/মিটার স্কোয়ার বা তার বেশি হলে গর্ভবতী মা এবং তার সন্তানের গর্ভাবস্থায় ও জন্মের ঠিক পরপরই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

৪। কিডনিতে সমস্যা:

কিডনি রোগ নারীদের গর্ভধারণে প্রবল সমস্যা সৃষ্টি করে। আপনি যদি নিশ্চিত হয়ে থাকেন আপনার কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তাহলে হুটহাট গর্ভধারণ না করাই ভালো। আপনি সিদ্ধান্ত নেন যদি যে সন্তান নিতে চান তাহলে সবার আগে নিজের শরীরকে তার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ডাক্তারের কাছে যান, ডাক্তারের পরামর্শ নিন কি করবেন আর কিভাবে নিজের আর অনাগত সন্তানের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেই গর্ভধারণ করতে পারেন।

৫। এইচআইভি:

এইচআইভির জীবাণু যদি আপনার শরীরে থাকে তাহলে এটি আস্তে আস্তে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে থাকবে। যেখানে আপনি নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে সেখানে কি আপনি আরেকটি নতুন প্রাণের রক্ষা বা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন?

এরপরেও যদি চান আপনি গর্ভধারণ করবেন তাহলে বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কারণ কিছুটা হলেও আশার কথা হল কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইচআইভি পজেটিভ নারীর গর্ভের ভ্রূণের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব যদিও সেটা খুব কম সংখ্যক।

0Shares