মতামত

‘বিজয়’ শুদ্ধতার নির্দেশনা দিক

ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। বঙ্গাব্দ অনুযায়ী অগ্রহায়ণের মধ্যবিন্দুসংলগ্ন দিবস, এক দিন আগে-পরে, বাংলা মাসের দিন গোনা পঞ্জিকার অনির্দিষ্টের কারণে। বিজয়ের দিনটি যদিও ১৬ই ডিসেম্বর, তবু ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকেই আমরা অনেক রক্তপাতে, অনেক মৃত্যুতে, অনেক মা-বোনের দৈহিক নির্যাতন ও মৃত্যুর বিনিময়ে রণাঙ্গনের যুদ্ধে অর্জিত বিজয় তথা স্বাধীনতার আনন্দ-উল্লাসের সূচনা ঘটাই। ঘটনাটি গর্ব ও অহংকারের। তুলনীয় ঘটনা ২৬শে মার্চ, যেদিন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিরোধ ও প্রকৃত লড়াইয়ের সূচনা, তত্ত্বগত বিচারে। তত্ত্বগত বিচারে দিন দুটি ভিন্ন—একটি লড়াইয়ের, আরেকটি বিজয় অর্জনের।

তাই মার্চ বা ডিসেম্বর এলেই স্বাধীনতাযুদ্ধ তথা মুক্তিযুদ্ধ আমাদের চেতনায় ঘণ্টা বাজাতে থাকে। শুরু হয়ে যায় নানামাত্রিক অনুষ্ঠান এবং দৈনিকের পাতায় বা অন্যত্র লেখালেখি, বিচার-বিশ্লেষণ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, সফলতা-ব্যর্থতা—সর্বোপরি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথকতা। ধরা যাক, এজাতীয় রচনারই এক নান্দীপাঠ বর্তমান নিবন্ধটি। কিন্তু মূলকথা শুরুর আগে একটি আনুষঙ্গিক কথা বলে নিই, যা প্রতিবছরই লিখি; কিন্তু কি রাজনৈতিক মহলে, কি বুদ্ধিবৃত্তিক সুধী মহলে—এর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই না।

কথাটা হলো, পাকিস্তানি শাসনামলে কি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনে, কি শেষ মুহূর্তে সূচিত মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের রাজনৈতিক আদর্শবাদী চেতনার ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, আরো সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে গণতন্ত্রী মতাদর্শভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদ। ১৯৭২ সালে প্রণীত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে এমন মতাদর্শের প্রাধান্যই প্রতিফলিত হয়েছিল।

তা সত্ত্বেও অপ্রিয় সত্যটি হলো, ওই জাতীয়তাবাদে আবেগ যতটা গভীর ছিল, বাস্তববোধ এবং আদর্শের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলোর বাস্তবায়নের প্রতি নজর ততটা ছিল না। ছিল না পাকিস্তানি মতাদর্শ প্রভাবিত সমাজটির ভেতর-বাইরে পরিবর্তনের বিচক্ষণতা ও দূরদৃষ্টি। এর পরিণাম শুভ হয়নি। আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের অভাবদুষ্ট সমাজ থেকেই ক্রমান্বয়ে আবির্ভূত হতে থাকে জাতীয়তাবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থ পরিণত হয় রাজনৈতিক স্বার্থে।

এসব তো বিষয়টির রাজনৈতিক-সামাজিক তত্ত্বগত দিক। কিন্তু এর আদর্শিক প্রতীকী প্রতিফলনটি আমরা দেখতে পাই বিজয় দিবসটি চিহ্নিতকরণে—অগ্রহায়ণের বদলে ডিসেম্বরে। একই উদাহরণ ২৬শে মার্চ ও ২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে। যুক্তিতর্কে কেউ হয়তো বলবেন, মাস-তারিখে কী আসে-যায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির যোগসূত্রের চরিত্র বিচারে? হয়তো ঠিকই কিছু ‘যায়-আসে না’—বিশেষ করে সাল-তারিখে।

কিন্তু আসে-যায় অন্যান্য ক্ষেত্রে। যেমন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে, তেমনি উচ্চ আদালতের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে। বিশদ বিশ্লেষণের সুযোগ নেই এসব ছোট পরিসরের উপসম্পাদকীয় নিবন্ধে। তবু বলি, বিষয়টি মানসিকতার, দৃষ্টিভঙ্গির, বিশেষ করে ঔপনিবেশিক রাজস্বার্থনির্ভর শ্রেণিস্বার্থের পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় ঠিকই গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণিগত বৈষম্যের দিকটি নিয়ে বিশেষ উপলক্ষে এখনো কাউকে কাউকে এ বিষয়ে বিচার-ব্যাখ্যা করে নিবন্ধ লিখতে দেখি।

দুই.

এবার মূল বিষয় অর্থাৎ বিজয় অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জন সম্পর্কে তাত্ত্বিক-রাজনৈতিক বিচার-ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য নিয়ে বলতে গেলে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি তথা সাফল্য-ব্যর্থতার প্রশ্নটি বড় হয়ে দাঁড়ায়। অনেককেই লিখতে দেখি বিষয়টি নিয়ে। এবং তা নানা নিরিখে, যার যার মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে।

তাঁদের মধ্যে এমন এক-আধজনের দেখা মেলে, যিনি এ বিষয়ে নিজ মতাদর্শভিত্তিক দলের ভুলভ্রান্তির কথা নির্দ্বিধায় মাঝেমধ্যে উল্লেখ করে থাকেন। বছর দুই আগে (২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩) ভাষাসংগ্রামী-সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ১৬ই ডিসেম্বর নিয়ে একটি দৈনিকে নিবন্ধ লিখেছিলেন, শিরোনাম ‘বিজয়ের মাসে আমাদের সাফল্য-ব্যর্থতার একটি খতিয়ান’।

এ ক্ষেত্রে বহু কথার মধ্যে তাঁর যে গুরুত্বপূর্ণ সত্য উপলব্ধিটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তা সত্যই অনুধাবনযোগ্য। তাঁর মতে, আমরা ‘পারিনি স্বাধীনতার মূলমন্ত্রগুলোকে দৃঢ় ভিত্তিতে দাঁড় করাতে।…রণাঙ্গনের যুদ্ধে জয়ী হয়েই আওয়ামী লীগ ধরে নিয়েছিল এটাই তাদের চূড়ান্ত জয়।’ প্রসঙ্গত, তিনি বিজয়ের পর ‘সিপিবি ন্যাপের (মোজাফফর ন্যাপের) ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিশে যাওয়ার নীতির’ সংগত সমালোচনা করেছেন ওই নিবন্ধে।

এ সম্পর্কে একাধিক ঘটনা বা তথ্য উল্লেখ না করেই উদাহরণস্বরূপ বলি, অনুরূপভাবে, কিন্তু আরো স্পষ্ট ভাষায় তাঁদের ওই ভুল নীতি সম্পর্কে বন্ধু রাজনীতিক অজয় রায়কে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছিলাম এবং তিনি তা মেনেও নিয়েছিলেন। বন্ধু গাফ্ফার চৌধুরী বিজয়বিষয়ক ঘটনাগুলোকে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিমাফিক একদিক থেকে বিচার করেছেন। উল্লিখিত ওই নিবন্ধে আমি ওই বিষয়টিকেই ভিন্ন নিরিখে দেখতে চাই এবং কিছু বলতে চাই সে সম্পর্কে।

তিন.

অভাবিত জয়ের আনন্দের উন্মাদনায় বাংলা মাধ্যম ও সমাজ বদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়ের প্রতি অবহেলা ও উপেক্ষার কথা এর আগে উল্লেখ করেছি। এবার বলতে চাই, তৎকালীন বিরাজমান সামাজিক-রাজনৈতিক নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রটিতে কঠোর নজর না দেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক দুর্নীতির সর্বনাশা পরিণাম সম্পর্কে সদ্যোজাত দুর্বল রাষ্ট্রটির শাসক শ্রেণির কঠোর কার্যকর অবস্থান গ্রহণের খুবই প্রয়োজন ছিল।

তখন লোকের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানগত দুর্নীতির দিকগুলো। এমনকি যা ব্যাপ্ত হয় ট্রেড ইউনিয়নভিত্তিক শ্রমিক শ্রেণিতে, বিশেষভাবে শ্রমিক নেতা ও সুবিধাবাদী শ্রমিকদের মধ্যে। বহু উদাহরণের একটি আদমজী চটকলের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকের (অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের) অবিশ্বাস্য দুর্নীতির কথা। পরে বিসিআইসিতে কর্মের সুবাদে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, একদা লাভবান পাকিস্তানি শিল্প-কারখানাগুলোর কী দুরবস্থা জাতীয়করণের পর। অথচ এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠনের পক্ষে সর্বদলীয় রাজনৈতিক সহযোগিতার অভাব বা বিরোধিতার যে কথা উল্লিখিত হয়েছে, ওই নিবন্ধে তার অনেকটা নিরসন ঘটতে পারত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিয়ে জাতীয় সরকার (ন্যাশনাল গভর্নমেন্ট) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে। এতে আওয়ামী লীগের দলীয় অবস্থানগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতো না, বরং রাজনৈতিক বিরোধিতা হ্রাস পেত।

পশ্চিমা দেশে, বিশেষত ইউরোপের গণতন্ত্রী নামে পরিচিত রাষ্ট্রগুলোতে জাতীয় সংকটকালে বিরোধী দলকেও সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত জাতীয় সরকার গঠনের নজির লক্ষ করা যায়। যেমন দেখা গেছে বিশ্বযুদ্ধকালে। ১৯৭১ সালে দল-নির্বিশেষে পাকিস্তানবিরোধী যুদ্ধের (বিচ্ছিন্নভাবে হলেও) যে উদাহরণ দেখা গেছে, বিজয় অর্জনের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় তেমন সম্মিলিত উদ্যোগ দেশ গঠনে শুভ পরিণতির দিকনির্দেশ দিতে পারত।

বহুদলীয় শাসনের যেমন নেতিবাচক দিক থাকে, পাশাপাশি এর ইতিবাচক দিকগুলো সংকটে-সমস্যায় দেশ গঠনের জন্য রাজনৈতিক সুস্থিতির পক্ষে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া তখনকার একাধিক ঘটনা সুশাসন ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করেছে—যেমন রক্ষীবাহিনীসহ একাধিক বাহিনীর নৈরাজ্যিক আচার-আচরণ, মুক্তিযোদ্ধা বনাম অমুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব, একইভাবে প্রশাসনে পাকিস্তানপন্থী আমলাদের নিয়োগ (বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত উল্লেখযোগ্য) ইত্যাদি বিষয় যেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রিক সুস্থিতির বিরুদ্ধে ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সব কিছু মিলিয়ে এ কথা সত্য যে একাত্তরের যুদ্ধ শেষে আমরা ভূ-রাজনৈতিক-রাষ্ট্রনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করেছি ঠিকই; কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানি মতাদর্শ পুরোপুরি বর্জন করতে পারিনি, সামরিক শাসনের প্রবণতা থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব হয়নি। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্রী মূল্যবোধকে পরাজিত করেছে—কি রাজনীতিতে, কি সামরিক বাহিনীতে। দেশাত্মবোধ, স্বদেশপ্রেম পিছু হটেছে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রাধান্য পেয়েছে। তাই রক্তক্ষয়ী একটি সফল যুদ্ধ শেষের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে গণতন্ত্রের গণেশ উল্টেছে। পাকিস্তানি ঐতিহ্যবাহী সামরিক অভ্যুত্থান বা স্বৈরশাসন বাংলাদেশের ভবিতব্য হয়ে দাঁড়ায়।

তাই বিজয়ের সফলতা-ব্যর্থতার খতিয়ান বা মূল্যায়ন করতে গেলে আশাহত দিকটাই যেন বড় হয়ে দাঁড়ায়। জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিভক্তি যেমন অভাবিত হয়ে ওঠে, তেমনি সংসদীয় ধারার শাসনব্যবস্থায়ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির যথাযথ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। সেই সূত্রে অপ্রত্যাশিত বিভাজন সমাজের সর্বস্তরে, যেমন রাজনীতিতে, তেমনি পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, এমনকি সাংবাদিক মহলেও। জাতীয় ঐক্য শব্দটি অন্তর্হিত। একাত্তরের ঐক্য বিস্মৃত।

এককথায় একটি অসাধারণ ‘বিজয়’ সত্ত্বেও বাংলাদেশে একটি দেশাত্মবোধক ঐক্যবদ্ধ জাতীয় চেতনা গড়ে তোলা গেল না। সম্ভব হলো না বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির আদর্শ একটি রূপ। সমাজের অবস্থাও ভিন্ন নয়। ব্যক্তিগত সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সন্ত্রাস কি বন্ধ হয়েছে বাংলাদেশের সমাজে? অন্তর্দলীয় কোন্দলেও রক্ত ঝরতে দেখা যাচ্ছে—কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে, কখনো দিনে-দুপুরে, কখনো মধ্যরাতের স্তব্ধতায়।

এ সব কিছুর পেছনে কাজ করছে অস্বাভাবিক লোভ-লালসা ও অপরিমিত বিত্তবৈভব সঞ্চয়ের আকাঙ্ক্ষা। ধনীর অতি ধনী হয়ে ওঠা যেকোনো পথে, যেকোনো মূল্যে—সেখানে কখনো বন্ধু বা মিত্র হত্যায় হাত কাঁপে না, বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ কাজ করে না। সামাজিক অবক্ষয়ের প্রকাশ প্রবল। মনে হয় পশ্চিমা ভোগবাদের আদর্শ আমাদের গ্রাস করতে চলেছে, বিশেষ করে বিত্তবান শ্রেণিতে। এর প্রভাব অংশত হলেও পড়ছে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে; শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর মতো একাধিক পেশাজীবী শ্রেণিতে। অর্থনৈতিক উন্নতির সামাজিক সুফল গ্রাস করছে একদিকে দুর্নীতি, অন্যদিকে নীতিগত ও আদর্শগত অবক্ষয়।

সমাজ ও রাজনীতির উভয় ক্ষেত্রে নীতিগত, আচরণগত শুদ্ধতার অভাব বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলোকে নেতিবাচকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘বিজয়’ হতাশায় নিমজ্জিত, ‘বিজয়’-এর আনন্দ নিষ্প্রাণ। তা ছাড়া শ্রেণিগত অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়টি তো বড় একটি বাধা। এদিকে নজর কম।

বিজয়ের চেতনা সার্থক করে তুলতে, উপভোগ্য করতে হলে উল্লিখিত নেতিবাচক দিকগুলোর অবসান অবশ্যই ঘটাতে হবে।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

ভি-ডি-ও-দেখুন:

0Shares