বিনোদন

কি কারনে বেড়েছে দেশের বাইরে শুটিং?

54Shares

টেলিভিশন নাটকের কলাকুশলীরা প্রায়ই রসিকতা করে বলেন, নেপাল এখন বাংলাদেশের পুবাইলের মতো। হয়েছেও তাই। এখন দেশের বাইরে শুটিং বেড়েছে। এখন হরহামেশাই তারকারা যাচ্ছেন নেপাল। সেখানে নির্মিত হচ্ছে নাটক। সেই নাটক প্রচারিত হচ্ছে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলে। শুধু নেপাল নয়, দেশের পরিচালক, প্রযোজক ও তারকাদের শুটিংয়ের নিরাপদ স্পট হিসেবে এখন থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া রয়েছে।

গতকাল সোমবারও নির্মাতা তপু খানের সঙ্গে একদল অভিনয়শিল্পী গেছেন নেপালে। অ্যাডমিশন টেস্ট নামে একটি ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় সিকুয়েলের জন্যই তাঁদের এই যাত্রা। কয়েক দিন আগে নির্মাতা সকাল আহমেদ গিয়েছেন নেপালে। কিছুদিন আগে ভারতের চেরাপুঞ্জিসহ বিভিন্ন জায়গায় নাটক নির্মাণ করেছেন নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ ও শহীদুন নবী।

তবে দেশের সুন্দর লোকেশনের পরও দেশের বাইরে কেন যান টিভি নাটকের কলাকুশলীরা? বিষয়টি নিয়ে কথা হয় এনটিভির অনুষ্ঠানপ্রধান মোস্তফা কামাল সৈয়দের সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশের একই লোকেশন দেখতে দেখতে দর্শকেরা ক্লান্ত হয়ে যান। তাঁদের চোখের প্রশান্তির জন্য অনেক সময় নির্মাতারা দেশের বাইরে শুটিং করতে যান। এটা আগে কালেভদ্রে হলেও এখন পরিমাণ বেড়েছে।

তবে দেশের বাইরে শুটিংয়ের বেলায় মোস্তফা কামালের অনুরোধ, গল্পের প্রয়োজনেই দেশের বাইরে যাওয়া ভালো। অনেক সময় ওখানে গিয়ে চিত্রনাট্য ঠিক করা হয়। এতে গল্পের মান থাকে না।

প্রায়ই দেশের বাইরে শুটিং করছেন অভিনেতা অপূর্ব। তিনি বললেন, দক্ষ নির্মাতা হলে গল্প ঠিকঠাক উপস্থাপন করতে পারেন। অদক্ষ হলে সমস্যা দেখা দেয়। তিনি জানান, ১২ ডিসেম্বর আটটি নাটকের শুটিং করতে নেপাল যাচ্ছেন তিনিসহ তৌসিফ মাহবুব, এফ এস নাঈম, জাকিয়া বারী মম, সারিকা ও তানজিন তিশা। ১৬ দিনে আটটি নাটক নির্মিত হবে। পরিচালনা করবেন সৈয়দ শাকিল ও সোহেল আরমান।

দেশের বাইরে শুটিং করার পেছনে অপূর্বর মতামত হলো, এখন দেশের চেয়ে দেশের বাইরে শুটিং খরচ কম। এখানে অনেক অনুমতি নিতে হয়। আর বিদেশে সব অভিনয়শিল্পী একসঙ্গে থাকার ফলে কাজটা দ্রুত শেষ হয়। এ ছাড়া দেশে আউটডোরে শুটিং করতে গেলে অনুমতির পাশাপাশি দর্শকের একটা ভিড় জমে যায়, দেশের বাইরে সেটা হয় না।

এ বছরের মাঝামাঝিতে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অপূর্বকে নিয়ে শুটিং করে এসেছেন নির্মাতা সাখাওয়াত মানিক। তাঁর মতে, এখন যত নাটক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়, তার অর্ধেক দেশের বাইরে শুটিং করা। তিনি জানান, হাতে গোনা দু-তিনজন তারকা ছাড়া সবাই দেশের বাইরে নিয়মিত শুটিং করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বাইরে মূলত একক নাটকের শুটিং বেশি হয়। তবে মাঝেমধ্যে ধারাবাহিকও নির্মিত হয়। যেমন এখন চ্যানেল আইতে প্রচারিত হচ্ছে মালয়েশিয়ায় শুটিং করা শামীম জামানের পরিচালনায় নাটক মওকা মালয়েশিয়া। এই নাটকের কিছু অংশের শুটিং বাংলাদেশে হয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। শামীম জামান জানান, গল্পের প্রয়োজনেই দেশের বাইরে শুটিং করা হয়েছে।

বিদেশে নির্মিত নাটক প্রসঙ্গে আরটিভির অনুষ্ঠানপ্রধান দেওয়ান শামসুর রকিব বলেন, যেসব দেশে এখন শুটিং হয়, সেসব দেশে যেতে আগাম ভিসা করতে হয় না। সমস্যা হলো, যেসব অভিনয়শিল্পী ফ্রি আছেন, তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। আর নির্মাণের বেলায় পরিকল্পনার অভাব দেখা যায়। এটা শুধরে নিলে এবং পরিকল্পনা করে কাজ করলে দেশের বাইরে নির্মিত নাটক দর্শকেরা পছন্দ করবেন।

বিদেশে শুটিংয়ের খুঁটিনাটি
ইউনিট ছোট হয়, ফলে দেশের বাইরের শুটিংয়ে খরচ কম। নির্দিষ্ট প্রযোজক থাকে না, তাই তুলনামূলক চাপ কম।
বেশির ভাগ শুটিং হয় নেপালের থামেল, নাগরকোট। ইন্দোনেশিয়ার বালি, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। অনেক সময় বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে স্থানীয় অভিনয়শিল্পীরাও অভিনয় করেন।

54Shares