অপরাধ ও আইন

কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস বিক্রি, অতঃপর…

34Shares

কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েকজন। আতঙ্কে রয়েছেন এ মাংস খেয়েছেন এমন অনেকে। এ ঘটনা ঘটেছে সোমবার রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ১২ নম্বর ডিগ্রি এলাকার বাজারে কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস ৪০০ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি করা হয়।

ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড (১২ নম্বর ডিগ্রি ও গাব্বুনিয়া) আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিল ফরাজী এই গরুর মাংস বিক্রি করেন।

এই বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেই গরুর মাংস খাওয়া কমপক্ষে চার জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তাদের মধ্যে গুরুতরদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে গলাচিপা ও পটুয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই গরুর মাংস অন্যান্য যারা খেয়েছেন, তাদের মধ্যেও এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড (১২ নম্বর ডিগ্রি ও গাব্বুনিয়া) ইউপি সদস্য জাকির হোসেন মৃধা বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস খলিল ফরাজী বাজারে বিক্রি করছে। ওই গরুর মাংস খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোমবার কোনো গরুর মাংসই বিক্রি করেন নি দাবি জানিয়ে অভিযুক্ত ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিল ফরাজী বলেন, ‘আমি গরুর মাংস বিক্রি করি নাই। ফেলাবুনিয়ার রত্তন খোনারের ছেলে জুরান খোনার তার গরু নিজেই জবাই দিয়া ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে। ওই গরু জবাই দেওয়ার সময় আমি ছিলাম। পরে শুনছি, ওই গরু নাকি কুকুরে কামড়াইছে।’

কুকুরের কামড়ানো গরুর মাংস খেয়ে মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ্য গরুর মাংস ভালো করে রান্না করে খেলে সমস্যা নেই। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কারণে মানসিক সমস্যায় ভুগে অসুস্থ হতে পারেন তারা। কিন্তু যারা এ মাংস কোটার সঙ্গে জড়িত, তাদের একটা রিস্ক থাকে।’

তবে অসুস্থ গরু জবাই দিয়ে বিক্রি করা অপরাধ বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ওসি মিলন কৃষ্ণ মিত্র বলেন, ‘বিষয়টি এখনও জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

34Shares