নানাবিধ

আ’লীগের ৩৯ এবং বিএনপির ১৩ আসনে প্রার্থী নেই, দেখুন তালিকাসহ

যাচাই-বাছাই শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩৯টি আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ১৩টি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকছে না। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায়, বিএনপির ১৪১ জনের ও আওয়ামী লীগের ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর ফলে এ নির্বাচনে বিএনপির বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫৫ জনে ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭৮ জনে। মনোনয়নপত্র বাতিলের ফলে বিএনপির ৮টি আসনে কোনো প্রার্থী রইলো না। এর আগে ৫টি আসনে দলটির কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেনি। সবমিলিয়ে ১৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই। গত ৮ নভেম্বর ২৯৫টি আসনে বিএনপির ৬৯৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ৩৯টি আসনে দলটির প্রার্থী নেই। এ নির্বাচনে ২৬৪ আসনে ২৮১ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে। ৪৯৮ জনের মধ্যে ৩৮৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ১১৪ জন।

যে ৩৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই

ঠাকুরগাঁও-৩; নীলফামারী-৩ ও ৪; লালমনিরহাট-৩; রংপুর-১ ও ৩; কুড়িগ্রাম-২; গাইবান্ধা-১; বগুড়া-২, ৩, ৪, ৬ ও ৭; রাজশাহী-২; কুষ্টিয়া-২; বরিশাল-৩ ও ৬; পিরোজপুর-২ ও ৩; ময়মনসিংহ-৪ ও ৮; কিশোরগঞ্জ-৩; মুন্সিগঞ্জ-১; ঢাকা-৪, ৬ ও ৮; নারায়ণগঞ্জ-৫; সুনামগঞ্জ-৪; সিলেট-২; মৌলভীবাজার-২; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২; ফেনী-১ ও ৩; লক্ষ্মীপুর-২ এবং চট্টগ্রাম-২ ও ৫।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এ ৩৬ আসনে নৌকার প্রার্থী ছিল না।

এখন বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় যোগ হল কুড়িগ্রাম-৪, সাতক্ষীরা ১ ও নারায়ণগঞ্জ ৩।

অবশ্য আপিল করে কেউ মনোনয়ন ফিরে পেলে এ সংখ্যা কমবে। ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দলীয় ও জোটগত প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। সেক্ষেত্রে নৌকা প্রতীকে জোটগতভাবে প্রার্থী সংখ্যা বাড়তেও পারে।

যে ১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই

টাঙ্গাইল-৮, মৌলভীবাজার-২, কুমিল্লা-৭, লক্ষ্মীপুর-৪ ও চট্টগ্রাম-১৪। মনোনয়নপত্র জমার নির্ধারিত দিনে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আরও ৮ আসনে বিএনপি আপাতত নেই। এ আসনগুলো হলো- ঢাকা-১, ৭ ও ১৬, সুনামগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, পাবনা-১, বগুড়া-৭।

অবশ্য আপিল করে কেউ মনোনয়ন ফিরে পেলে এ সংখ্যা বাড়বে। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৯ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীকসহ প্রার্থী চূড়ান্ত হবে।

বাছাই শেষে বাকি দলগুলোর বৈধ প্রার্থীর অবস্থা

জেপির ১৭টির মধ্যে বৈধ ১৩টি

সাম্যবাদী দলের ৩টির মধ্যে ২টি

গণতন্ত্রী পার্টির ৮টির মধ্যে সবগুলো বৈধ

ন্যাপের ১৪টির মধ্যে ১১টি

ওয়ার্কার্স পার্টির ৩৩টির মধ্যে ৩২টি

জাসদের ৫৩টির মধ্যে ৩৯টি

সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ৩টি

তরীকত ফেডারেশনের ২০টির মধ্যে সবগুলোই বৈধ

বিকল্প ধারার ৩৭টির মধ্যে ২৪টি

জাকের পার্টি ১০৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৩টি

গণফোরামের ৬১টির মধ্যে ৪৪টি

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৩৭টির মধ্যে ৩২টি

জেএসডির ৫১টির মধ্যে ৪৪টি

এলডিপির ১৫টির ১২টি

বিজেপির ১১টির মধ্যে ৬টি

এনপিপির ৯০টির মধ্যে ৭৩টি

জাগপার ৬টির মধ্যে ৪টি

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ১৩টির মধ্যে ১১টি

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৪৯টির মধ্যে ৪০টি

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ১৫টির মধ্যে ১৪টি

কল্যাণ পার্টির ৫টির মধ্যে সবগুলোই বৈধ

সিপিবির ৭৭টির ৬৯টি

বাসদের ৪৯টির মধ্যে ৪৩টি

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৩০টির মধ্যে ২৭টি

ইসলামী ঐক্যজোটের ৩২টির মধ্যে ২৭টি

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ১২টির মধ্যে ৯টি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৯৯টির মধ্যে ২৮১টি

বিএমএলের ১৭টির মধ্যে ৬টি

বিএনএফের ৭১টির মধ্যে ৫৬টি

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ২২টি

খেলাফত মজলিসের ১৩টি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। তাদের ৩০৬৫ টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে মোট ২ হাজার ৫৬৭টি। এর বাইরে স্বতন্ত্র ৪৯৮টি মনোনয়নপত্র মিলিয়ে মোট সংখ্যা ৩ হাজার ৬৫। ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন। ওইদিন ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। স্বতন্ত্র বৈধ প্রার্থী আছেন ১১৪টি।

বাতিল হওয়া প্রার্থীরা বুধবার পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। ৬, ৭, ৮ ডিসেম্বর আপিল শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে কমিশন।

এ বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘যেসব মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষিত হয়েছে, সেসব প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিশনে আপিলের সুযোগ পাবেন। ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর আপিল শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে কমিশন।

আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে।

ভি-ডি-ও-দেখুন:

533Shares