আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হুশিয়ারি শুনালেন ভ্লাদিমির পুতিন

স্নায়ুযুদ্ধকালীন চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলে বসে থাকবে না রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর দেশে নিষিদ্ধ হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা শুরু করবে। আজ বুধবার রুশ সংবাদমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন পুতিন।

ন্যাটো সম্প্রতি অভিযোগ করে বলেছে যে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের সময় করা ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি ভঙ্গ করেছে রাশিয়া। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের স্বল্প ও মধ্য পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য বলছেন, আইএনএফ চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার বাহানা হিসেবেই এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পুতিন বলেন, আইএনএফ চুক্তিতে যেসব অস্ত্রের উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, বিশ্বের অনেক দেশ এখন সেগুলো উৎপাদন করছে। তিনি বলেন, ‘অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের আমেরিকান অংশীদাররাও এখন এমন অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যুত্তর কী হবে? এটি খুবই সাধারণ বিষয়। তখন আমরাও ওই ধরনের অস্ত্র তৈরি করা শুরু করব।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আইএনএফ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমানের প্রচলিত অস্ত্রগুলোর বিপরীতে তুলনামূলকভাবে সস্তা বিকল্প হতে পারে আইএনএফ চুক্তিতে নিষিদ্ধ থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো।

গত মঙ্গলবার ন্যাটো অভিযোগ করে বলে, রাশিয়া ওই চুক্তির বিধান অমান্য করেছে। এক বিবৃতিতে ন্যাটো জানায়, আইএনএফ চুক্তিতে নিষিদ্ধ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্প্রতি চালু করেছে রাশিয়া। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার মুখ খুললেন পুতিন।

সর্বশেষ ২০০২ সালে অস্ত্রবিষয়ক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়।

ভি-ডি-ও-দেখুন:

255Shares