আজকের পত্রিকা

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৮০ জন

রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৮০জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির ৩৯জন, স্বতন্ত্র ১২ জন, জাতীয় পার্টি-জাপার ৯জন এবং অন্যান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২০জন প্রার্থী রয়েছেন। আপিল শুনানির প্রথমদিনে ১৬০জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৬জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। বাকি চারটি আবেদনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের রায় স্থগিত রাখা হয়েছে। শনিবারের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হবে। ইসি সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

১৬০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৯জন ছিল বিএনপির প্রার্থী। দলটির ২০জন প্রার্থী শুনানিতে বাদ পড়েছে। ৪০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জন আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এইচ এম এরশাদের জাতীয় পাটি-জাপার ১৬ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়ন অবৈধ হয়। বাকীরা অন্যান্য দলের ২১জনের বাতিল হয়েছে। তবে যাদের দন্ডাদেশ আদালতে স্থগিতাদেশ আছে তারা মনোনয়নের বৈধতা ফিরে পাননি। এছাড়াও পদত্যাগকারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের মনোনয়ন বৈধ করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে ইসি। ব্যক্তিগত খেলাপিরাও বিল পরিশোধ করে সুযোগ পেয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিলের কারণে অনেকে প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পাননি।

ইসির বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের আর কোনো বাধা থাকল না। গত ২রা ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে ৬৯৬জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ৫৫৫ জনের বৈধতা পেয়েছিল। ১৪১জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। নির্বাচন ভবনের একাদশ তলায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি চলে। ৫৪৩টি আপিল আবেদনের মধ্যে প্রথম দিন ১৬০টি আবেদনের ওপর শুনানি হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো :রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এই শুনানিতে বিচারকের আসনে ছিলেন। ইসির জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার আবেদনের ক্রমিক নম্বর অনুসারে ১৬১ থেকে ৩১০ এবং শনিবার ৩১১ থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আপিলের শুনানি হবে।

২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। সে সময় মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে ৭৮৬টি বাতিল হয় যার অধিকাংশই ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীর।

বিএনপি; বৈধতা পেয়েছেন যারা :বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ মিল্টন,ঢাকা-২০ আসনে তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আখতারুজ্জামান, পটুয়াখালী-৩ আসনে গোলাম মওলা রনি, ঝিনাইদহ-১ আসনে আবদুল ওয়াহাব, দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, ঝিনাইদহ-২ আসনে আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, জামালপুর-৪ আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার, পটুয়াখালী-৩ আসনে মো.শাহজাহান, সিলেট-৩ আসনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জয়পুরহাট-১ আসনে ফজলুর রহমান, পাবনা-৩-আসনে মো : হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আসনে আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আইনাল হক, খুলনা-৬ আসনে শফিকুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনে জয়নাল আবেদিন, শেরপুর-২ আসনে এ কে এম মুখলেছুর রহমান, ঢাকা-৫ আসনে সেলিম ভূইয়া, কুমিল্লা-৩ আসনে এ কে এম মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ আসনে তোজাম্মেল হক, ময়মনসিংহ-৩ আসনে আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসনে আবু আসিফ, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আতাউর রহমান, ঢাকা-১৪ আসনে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আবদুল খালেক, চট্টগ্রাম-১ আসনে নুরুল আমিন, কুমিল্লা-৫ আসনে মো. ইউনুছ, চট্টগ্রাম-৩ আসনে মোস্তফা কামাল পাশা, গাইবান্ধা-৩ মো :রফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৪ মো : নাজিমুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাটোর-৪ মো : আ ঃ আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৬ এম এ মুহিত, সিরাজগঞ্জ-৫ মেজর (অব.) মনজুর কাদের, রাজশাহী-১ ব্যারিষ্টার আমিনুল হক, দিনাজপুর-১ মো : হানিফ, চট্টগ্রাম-৮ এরশাদুল্লাহ।

বিএনপির বাতিল হলো যাদের :খাগড়াছড়ি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, পঞ্চগড়-১ আসনে তৌহিদুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনে আবদুল মুহিত, বগুড়া-৬ আসনে এ কে এম মাহবুবুর রহমান, হবিগঞ্জ-২ আসনে জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম-৫ আসনে মীর মোহাম্মদ নাসির, নীলফামারী-৪ আসনে আমজাদ হোসেন, নীলফামারী-৩ আসনে ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসনে আখতার হোসেন, ফেনী-১ আসনে নূর আহম্মদ মজুমদার, লালমনিরহাট-৩ মো : জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর-৫ মমতাজ হোসেন, মাগুরা-২ মেহেদি আল মাসুদ, যশোর-২ সাবিরা সুলতানা মুন্নি, নাটোর-২ মো : রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বগুড়া-৭ মো : সরকার বাদল, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নওগাঁও-৫ মো:নজমুল হক,সিরাজগঞ্জ-৩ সাইফুল ইসলাম শিশির, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৪ মুশফিকুর রহমান।

স্বতন্ত্র; বৈধ প্রাথীরা হলেন :ময়মনসিংহ-২ আসনে আবু বকর ছিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ইউনুছ আলী, বরিশাল-২ আসনে মো. আনিচুজ্জামান, সিলেট-৫ আসনে ফয়জুল মুনির চৌধুরী, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসনে মুখলেছুর রহমান, লক্ষীপুর-১ আসনে মাহবুব আলম, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-২ আসনে আশরাফ উদ্দিন, রংপুর-১ মো : আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৩ মো : আবু জাফর, বগুড়া-৫ আসনের মো : আব্দুর রউফ মন্ডল জন, গাইবান্ধা-৪ আবদুর রহিম সরকার, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মো : জহিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-৪ আবদুল মান্নান।

স্বতন্ত্র; বাতিল প্রার্থীরা হলেন :চাপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে নবাব মো. শামসুল হুদা, চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. তৈয়ব আলী, দিনাজপুর-২ আসনে মোকারম হোসেন, দিনাজপুর-১ আসনে পারভেজ হোসেন, ফেনী-১ আসনে মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মিজানুল হক, ময়মনসিংহ-৪ আবু সাঈদ মহিউদ্দীন, রাঙ্গামাটিতে অমর কুমার দে, সাতক্ষীরা-১ আসনে এস এম মুজিবর রহমান (সরদার মুজিব), ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৩ আসনে মো. বশির উল্লাহ, নওগাঁ-৪ আসনে মো. আফজাল হোসেন, ফেনী-৩ আসনে হাসান আহমদ, ময়মনসিংহ-১০ আসনে হাবিবুল্লাহ বেলালী, লক্ষীপুর-২ আসনে আবুল ফয়েজ ভূইয়া, কুমিল্লা-২ আসনে সারওয়ার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে মাহবুবুল আলম, নোয়াখালী-৩ আসনে এইচ আর এম সাইফুল ইসলাম। গাইবান্ধা-২ মো : মোকদুবার রহমান, লালমনিরহাট-১ আবু হেনা মো : এরশাদ হোসেন, নীলফামারী-৪ আক্তার হোসেন বাদল, নীলফামারী-৪ মিনহাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ মো : আবুল হাসেম, কুড়িগ্রাম-১ মো : ওসমান গনি, বাগেরহাট-৪ আমিনুল ইসলাম খান, নড়াইল-১ শিকদার মো : শাহাদাত হোসেন, সাতক্ষীরা-১ নুরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৪ আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৫ নজরুল ইসলাম ভুইয়া।

জাপা; বৈধ প্রার্থীরা হলেন :মাদারীপুর-১ আসনে জহিরুল ইসলাম মিন্টু, গাজীপুর-২ আসনে মাহবুব আলম ও জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৬ আসনে জেসমিন নূর বেবী, রংপুর-৪ আসনে মোস্তফা সেলিম, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৩ আসনে আবদুল্লাহ আল হেলাল, নাটোর-৪ আসনে আলাউদ্দিন মৃধা, ঝিনাইদহ-৩ আসনে কামরুজ্জামান স্বাধীন, ব্রাহ্মমবাড়িয়া-৫ আসনে মামুনুর রশিদ।

জাপার বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন :মাদারীপুর-৩ আসনে আবুল খালেক, ময়মনসিংহ-২ আসনে এমদাদুল হক, খুলনা-২ আসনে এস এম এরশাদুজ্জামান, বগুড়া-৪ আসনে আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম), জামালপুর-৪ আসনে মামুনুর রশিদ, বগুড়া-২ আসনে আবুল কাশেম, গাইবান্ধা-৩ মো :মনজুরুল হক।

অন্যান্য; দলের বৈধরা হলেন :সাতক্ষীরা-২ আসনে জেএসডির আফসার আলী, পটুয়াখালী-১ আসনে এনপিপির মো : সুমন সন্যামত, হবিগঞ্জ-১ আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের জোবায়ের আহমেদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের মওলানা মুহাম্মদ সোলাইমান খান রাব্বানী, ব্রাহ্মমবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ আনোয়ার আহাম্মদ লিটন, ঢাকা-১৪ আসনে জাকের পার্টের জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনে এলডিপির এম এম বাসার, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে গণফোরামের মাহফুজার রহমান,

চাঁদপুর-৫ আসনে এলডিপির নেয়ামুল বশির, কুড়িগ্রাম-৪ জাকের পার্টির শাহ আলম, যশোর-৬ জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান, নড়াইল-২ এর জেএসডির ফকির শওকত আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৬ মুসলীম লীগের মো : হাবিবুর রহমান, বগুড়া-২ মুসলীম লীগের শফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৬ জাকের পার্টির মো : ফয়সাল বিন, বগুড়া-৫ আসনে বিকল্প ধারার মাহবুব আলী, চট্টগ্রাম-১০ আসনে জাসদের আনিছুর রহমান, কুমিল্লা-১১ জাকের পার্টির মো : তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-৫ ইসলামী ঐক্যজোটের মো : শাহ আলম।

অন্যান্য; দলের বাতিল হওয়া প্রার্থী :ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিকল্পধারার এস এম খলিলুর রহমান, নাটোর-১ আসনে সাম্যবাদী দলের বীরেন্দ্র নাথ সাহা, ঢাকা-১ আসনে জাসদের আইয়ুব খান, ঢাকা-১৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের সাইফুদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার-২ মহিবুল কাদির চৌধুরী (জেপি), কুমিল্লাু ১০ আসনে মুসলিম লীগের আবুল কালাম আজাদ, মৌলভীবাজারু ২ আসনে জাতীয় পার্টি (জেপি) মহিবুল কাদের চৌধুরী, যশোর-২ জাকের পার্টির হাজী মহিদুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, নওগাঁও-২ বিকল্পধারার আব্দুর রউফ মান্নান, বগুড়া-৭ আসনে জাসদের মো : আব্দুর রাজ্জাক, নাটোর-৪ জাসদের ডিএম রনি পারভেজ আলম ও মুসলীম লীগের শান্তি রিবারু, চট্টগ্রাম-৯ ইসলামী ঐক্যজোটের মো : দুলাল খান, বান্দরবানের ইসলামী ঐক্যজোটের বাকুল হোসন। নীলফামারী-৪ আসনের একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সোসাল ইসলামী ব্যাংক আপিল করলেও তা খারিজ করে দেয় ইসি।

স্থগিত ৪টি আপিল

গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. নাজিমুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ইমান আলী, চট্টগ্রাম-৯ আাাসনের সামসুল আলম। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আদিভ আলভীর আপিল আবেদনও পেন্ডিং আছে।

ভি-ডি-ও-দেখুন:

0Shares